ইব্রাহিম খলিল শাওনঃ
রাজধানীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। নিহত শিশুটির নাম রামিসা (৮)। সে স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। এই ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত জাকির হোসেন জানালা কেটে পালিয়ে গেলেও পুলিশ তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে বড় বোনের সাথে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল রামিসার। কিন্তু স্কুলের সময় পেরিয়ে গেলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। দুই বোন সাধারণত একসাথেই স্কুলে যাতায়াত করত। রামিসাকে না পেয়ে বড় বোন বাসার নিচে এবং মা পাশের ফ্ল্যাটগুলোতে খোঁজ শুরু করেন।
পাশের একটি ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখে মায়ের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তিনি দরজায় বারবার নক করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। উল্টো ভেতর থেকে দরজা আরও শক্ত করে আটকে দেওয়ার আভাস পান তিনি। মায়ের চিৎকারে আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন জড়ো হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে। ভেতরে ঢুকেই উপস্থিত সবাই দেখতে পান পুরো ঘরে রক্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে পুলিশ খাটের নিচে মাথা ছাড়াই শিশু রামিসার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে। পরনের কাপড় দেখে মায়ের আদরের সন্তানকে শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে বাথরুম থেকে রামিসার রক্তাক্ত কাটা মাথাটি উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত রিকশা মেকানিক জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় এবং তাকে পালাতে সরাসরি সহায়তা করে তার স্ত্রী স্বপ্না।
আটককৃত স্ত্রী স্বপ্না পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। স্বপ্না জানায়, তার স্বামী জাকির বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত। রামিসাকে টার্গেট করেই দুই মাস আগে তারা এই ফ্ল্যাটে বাসা ভাড়া নেয়। সকালে রামিসাকে কৌশলে রুমে এনে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় জাকির। শিশুটি ছোট হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে জাকির তার গলা টিপে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ডের পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে জাকির ও স্বপ্না মিলে রামিসার শরীর থেকে মাথা কেটে আলাদা করে। তাদের পরিকল্পনা ছিল মাথা ও শরীর দুটি ভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া যাতে কেউ লাশ চিনতে না পারে। কিন্তু তার আগেই রামিসার মা দরজায় চলে আসায় তারা ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তাড়াহুড়ো শুরু করে। স্বপ্না ইচ্ছে করেই দরজা খুলতে দেরি করে যাতে জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালাতে পারে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত জাকির পেশায় একজন রিকশা মেকানিক। এর আগেও নাটোরে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, তবে জামিনে সে ছাড়া পেয়ে যায়।
রামিসার বাবা একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ মানুষ। আদরের ব্রিলিয়ান্ট ও হাসিখুশি মেয়েটিকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন বাকরুদ্ধ। খাটের নিচ থেকে মেয়ের লাশ বের করার দৃশ্য দেখে মা ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। মেয়ের ছবি হাতে নিয়ে অবিরত কেঁদে চলেছেন অসহায় বাবা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল হোতা জাকিরকে দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।