ঢাকা: রাজধানীর কাজলা থেকে নোয়াখালী রুটে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে অভিনব প্রতারণা ও চরম হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ‘নীলাচল’ পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। প্রথমে নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষার ‘টান’ দেখিয়ে এসি (AC) বাসের টিকিট বিক্রি, পরে নন-এসি বাসে তুলে দেওয়া এবং সবশেষে কাঁচপুর কাউন্টারে এসে মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বের জেরে মাঝপথে বাস আটকে রাখার ঘটনায় সাধারণ যাত্রীদের ক্ষোভ এখন চরমে।
ভুক্তভোগী এক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই বিভীষিকাময় ভ্রমণের পুরো বিবরণ তুলে ধরেছেন।
ভুক্তভোগী যাত্রী জানান, নোয়াখালী যাওয়ার উদ্দেশ্যে কাজলা কাউন্টারে গিয়ে তিনি দেখেন কোনো বাসেরই টিকিট নেই। প্রথমে ‘হিমাচল’ পরিবহনের একটি নন-এসি টিকিট ৭০০ টাকা চাওয়া হয়। এরপর ‘নীলাচল’ পরিবহনের কাউন্টারে ৮৫০ টাকায় একটি এসি বাসের টিকিট পাওয়া যায়।
টিকিট কাটার সময় কাউন্টার মাস্টার নোয়াখালীর চাটখিলের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলায় যাত্রীও নিজের বাড়ি সোনাইমুড়ী বলে পরিচয় দেন। মুহূর্তেই কাউন্টার মাস্টার ‘আঞ্চলিকতার সুবিধা’ দেওয়ার নাটক শুরু করেন।
"আচ্ছা, ৭৫০ টাকা দেন আপনার জন্য। তাও বহু কষ্ট করে আরেকজনের টিকিট কেটে আপনাকে দিচ্ছি।"
৫০০ টাকার নিয়মিত টিকিট ৭৫০ টাকা দিয়ে কিনে ২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর বাস আসলে যাত্রী দেখেন সেটি এসি বাস নয়, বরং সাধারণ নন-এসি বাস। কাউন্টারে প্রতিবাদ করলে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে বলা হয়— *"ওই গাড়ির চেয়ে এটা ভালো, ৫০ টাকা কম দিয়েন চলে যান, গাড়ি নাই আর।"* গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়নায় বাধ্য হয়েই যাত্রী ওই বাসে ওঠেন।
কাজলা কাউন্টারের ধাক্কা সামলে বাসটি কাঁচপুর কাউন্টারে পৌঁছামাত্রই শুরু হয় আরেক দফা ভোগান্তি। বাসটি সেখানে আসার পর চালক (ড্রাইভার) হুট করেই গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং মালিকের ওপর ক্ষোভ থেকে গাড়ি বন্ধ রেখেছেন চালক। চালকের দাবি, **তিনি বিগত ১ বছর ধরে মালিকের কাছে বকেয়া ৬ হাজার টাকা পান।** সেই টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তিনি গাড়ি এক ইঞ্চিও সামনে বাড়াবেন না।
টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও মাঝপথে মালিক আর ড্রাইভারের অভ্যন্তরীণ পাওনা-গণ্ডার দ্বন্দ্বে চরম বিপাকে পড়েছেন বাসে থাকা সাধারণ যাত্রীরা। প্রচণ্ড গরমে রাস্তার মাঝে আটকে থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
পরিবহন খাতের এই নৈরাজ্য নতুন কিছু নয়। একদিকে কাউন্টারগুলোর টিকিট ব্ল্যাকিং ও প্রতারণা, অন্যদিকে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল— এসবের মাশুল সবসময় সাধারণ যাত্রীদেরই দিতে হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, অবিলম্বে কাজলা ও কাঁচপুর এলাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বিআরটিএ (BRTA)-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত জোরদার করা হোক এবং এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।