
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন বোনসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং একমাত্র বেঁচে যাওয়া সন্তান সিফাতের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
নিহতদের মধ্যে বড় বোন সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় ফল বিক্রেতা অন্তর মজুমদার (বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও) দীর্ঘদিন ধরে সায়মাকে রাস্তাঘাটে উত্যক্ত ও উগ্রভাবে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। সায়মা ও তার পরিবার মুসলিম হওয়ায় এবং সায়মা এই উত্যক্তকরণ পছন্দ না করায় এলাকার মুরুব্বিদের বিষয়টি জানানো হয়। পরিবারটি অন্তর মজুমদারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকে।
আস্তানায় পরিকল্পনা ও নির্মম হত্যাকাণ্ড
অভিযোগ উঠেছে, অন্তর মজুমদার স্থানীয় এক তান্ত্রিকের আস্তানায় বসে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ পরিকল্পনা করে। গতকাল সকালে সিফাত যখন তার রড-সিমেন্টের দোকানের কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়, সেই সুযোগে অন্তর মজুমদার ব্যাগে ধারালো চাপাতি ও রশি নিয়ে তাদের ঘরে প্রবেশ করে।
ঘরে ঢুকেই সে সায়মার ওপর হামলা চালায়। সায়মার চিৎকার শুনে তার মা এবং ছোট দুই বোন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ঘাতক অন্তর মজুমদার একে একে চারজনকেই নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। ক্ষোভের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, একজনের শরীর থেকে অভ্যন্তরীণ অঙ্গও বের হয়ে আসে।
প্রতিবেশীর তৎপরতা ও ঘাতক আটক
হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক যখন পালানোর চেষ্টা করছিল, তখন পাশের বাসার প্রতিবেশী আফরোজা বেগম চিৎকার শুনে জানালা দিয়ে তাকে রক্তাক্ত ও অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় দেখতে পান। জিজ্ঞেস করা হলে ঘাতক নিজেকে পাইপ লাইনের মিস্ত্রি বলে দাবি করে। তবে আফরোজা বেগম বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে বাইরে থেকে কেঁচি গেট (Collapsible gate) আটকে দিলে ঘাতক আর পালাতে পারেনি এবং পরবর্তীতে তাকে আটক করা হয়।
সিফাতের সীমাহীন শূন্যতা
সিফাতের পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। ২০১৯ সালে বাবা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার পর থেকে মা অনেক কষ্টে সন্তানদের বড় করছিলেন। সিফাত নিজে পড়াশোনার পাশাপাশি মাত্র ৮,০০০ টাকা বেতনে কাজ করে পরিবারে সাহায্য করত। ঘটনার পর বাসায় ফিরে মা ও বোনদের নিথর দেহ দেখে সিফাত বারবার মূর্ছা যাচ্ছে। তার বুকফাটা আর্তনাদ—*”আম্মা সকালে জিগাইছিল নাশতা করছি কিনা… এখন তো কেউ আর জিজ্ঞেস করবে না”*—উপস্থিত সবাইকে কাঁদিয়ে তুলেছে।
দাবি ও বিচার:এই জঘন্য ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এলাকাবাসী। উগ্র মানসিকতা ও সাম্প্রদায়িক ক্ষোভ থেকে ঘটা এই পাশবিক অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘাতক অন্তর মজুমদারের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি উঠেছে সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে।
>
















