০৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাতারপাইয়া বাজারে সংঘর্ষের নেপথ্যে আধিপত্য বিস্তার, ৭০টি দোকানে হামলা-লুট

 

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর ছাতারপাইয়া বাজারে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, হামলা ও দোকানপাট লুটের ঘটনা ঘটেছে। সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া বাজারে শুক্রবার(২৯ মে) রাত সাড়ে আটটা থেকে দফায় দফায় এই সংঘর্ষ হয়। এসময় বাজারের অর্ধশতাধিক দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যা থামাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। পরে রাত একটার দিকে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

 

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন থেকে ছাতারপাইয়া এলাকার পূর্ব পাড়া ও পশ্চিম পাড়ার কোন্দল চলে আসছে। সামান্য কিছু হলেই দুই পক্ষে হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পশ্চিম পাড়া নিয়ন্ত্রণ করেন ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ইসমাইল মেম্বার। পূর্ব পাড়া নিয়ন্ত্রণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান। ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখানে হামলা-লুটপাট হয়ে থাকে। ইদের তিনদিন পূর্বে ইজিবাইকের সাথে মোটরসাইক দূর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম পাড়ার একটি গ্রুপ পূর্ব পাড়ার যুবদল নেতা সুমনদের বড় বাড়িতে হামলা চালায়। তারই সূত্র ধরে এই হামলা হয়েছে। এসময় অনেক দোকানে হামলা ও লুটপাট করা হয়েছে। বন্যার সময়েও পূর্ব পাড়া-পশ্চিম পাড়ার মধ্যে মারামারি হয়েছিলো। এর আগেও ২০১৬ সালে বাজারে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাতারপাইয়া পশ্চিম বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, ইদের তিন-চারদিন আগে পশ্চিম পাড়ার ইসমাইল মেম্বার ও তার এক আন্তীয় মোটরসাইকেল চালানোর সময় এক ইজিবাইকের সাথে ধাক্কা লাগে। সেই সময় ইজিবাইক চালকের সাথে ইসমাইল মেম্বারের হাতাহাতি হয়। ওই ইজিবাইক চালকের শ্বশুর বাড়ি ছিলো পূর্ব পাড়ার বড়বাড়িতে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইরাতে মেম্বারের লোকজন পূর্ব পাড়ার যুবদল নেতা বড়বাড়ির সুমনের ওপরে হামলা চালায়। তবে এই ঘটনাকে আড়াল করতে গতকালকের বৈদ্যুতিক তার চুরির মিমাংসিত বিষয়কে সামনে আনা হচ্ছে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাতারপাইয়া বাজারের ছোনোয়ার হার্ডওয়ার এর সত্ত্বাধিকারী বেলায়েত হেসেন বাড়ি নির্মাণ করছেন। সেখানে বিদ্যুৎ অয়ারিং এবং জিপসামের ইন্টেরিয়ার ডেকরেশনের কাজ চলমান রয়েছে। জিপসামের কাজ করছিলেন পশ্চিম পাড়ার ঠিকাদার মইন। বৈদ্যুতিক বোর্ডের কিছু তার চুরি হয়। যে ঘটনায় অভিযোগ ওঠে ইন্টেরিয়ার ডেকোরেশনের কর্মীদের ওপরে। পরে শুক্রবার বিকালে ক্ষতিপূরন দেওয়ার শর্তে বিষয়টি মিমাংসা হয়। তবে ছাতার পাইয়া বাজারের সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনার সূত্রপাত হিসেবে তার চুরির বিষয়টিকে সামনে আনা হয়েছে।

 

বাজারের ছানোয়ার হার্ডওয়ার এর সত্ত্বাধিকারী বেলায়েত হেসেন জানান, নির্মাণাধীন বৈদ্যুতিক তার চুরির বিষয়টি নিয়ে বিকালেই মইন কন্ট্রাক্টারের সাথে মিমাংসা হয়ে যায়। পরে রাতের দিকে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়ায়। একই ভাবে মইন কন্ট্রাক্টর জানান, তার কেটে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে পূর্ব-পশ্চিম পাড়ার সংঘর্ষ হয়নি। দুটি গ্রুপ নিজেদের স্বার্থে এই মারামারি করেছে। যাদের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতারা রয়েছেন।

 

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার এশার নামাজের আগে থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দুই গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট ছোড়াছুড়ি চলে। এসময় উভয়পক্ষে হেলমেট, দেশীয় অস্ত্র, রড়, লোহার পাইপ ও লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালায়। সোনাইমুড়ী ও সেনবাগ থানার পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। এসময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। তবে তারা টিয়ার শেল, লাঠিচার্জ করেনি। পরে সেনাবাহিনী এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

 

ছাতারপাইয়া বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, বাইরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে

বাজারে ভাংচুর-লুটপাটে তারা কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ ইসরাফিলের বাড়ি পশ্চিম পাড়ায়। তিনি জানান,গতকাল সার্টার ভেঙ্গে দোকানে থাকা বিভিন্ন ব্রান্ডের সিগারেট, মোবাইল ও নগদ টাকা লুটপাট চালায় হামলাকারীরা। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি।

 

বাজারের হুমায়ুন কবিরের মুদি দোকানে ব্যাপক লুটপাট চালায় হামলাকারীরা। তিনি পশ্চিম পাড়ার মালেক মেম্বার বাড়ির বাসিন্দা। হামলাকারীরা দোকান ভেঙ্গে বোতলজাত সয়াবিন তেল, প্যাকেটজাত শিশুখাদ্য দুধসহ ৮লাখ টাকার মালামাল ও ক্যাশে থাকা নগদ ৬০ হাজার টাকা লুটে নিয়ে যায়।

 

বাজারের শেষ প্রান্তের দোকান আল-মদিনার সত্ত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম। তিনি পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা। তার দোকান থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে হামলাকারীরা। তিনি এই হামলা ও লুটপাটের নেতৃত্বে পশ্চিম পাড়ার ইসমাইল মেম্বারের যোগসাজশের অভিযোগ তোলেন।

 

ছাতারপাইয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল আহাদ বলেন, বিভিন্ন সময়ে এই দুই গ্রুপের মারামারি কারনে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ৭০টির বেশি দোকানে হামলা করা হয়েছে। অনেক দোকানে লুটপাট করা হয়েছে। অনেকগুলো দোকানের বৈদ্যুতিক মিটার ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী ঋণ নিয়ে, সুদে টাকা নিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন। এমন মারামারি লেগে থাকলে এই বাজার একসময় ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়বে। তিনি আরো জানান, নোয়াখালী-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক এই বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করবেন। তিনি এমপির কাছে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

 

এদিকে এই বিষয়ে কথা বলতে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের চেয়ারম্যান এন্টারপ্রাইজে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওতে গতকাল রাতে বাজারের ব্যবসায়ীদের লাঠি হাতে প্রস্তুত থাকতে মাইকে ঘোষণা দিতে দেখা যায় তাকে। এছাড়া ইসমাইল মেম্বারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কল রিসিভ হয়নি।

 

ঘটনার বিষয়ে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিভিন্ন দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হন। তবে কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত

চাটখিলে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যুবদলের র‍্যালি ও সমাবেশ

ছাতারপাইয়া বাজারে সংঘর্ষের নেপথ্যে আধিপত্য বিস্তার, ৭০টি দোকানে হামলা-লুট

আপডেট: ০৭:৩০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

 

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর ছাতারপাইয়া বাজারে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, হামলা ও দোকানপাট লুটের ঘটনা ঘটেছে। সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া বাজারে শুক্রবার(২৯ মে) রাত সাড়ে আটটা থেকে দফায় দফায় এই সংঘর্ষ হয়। এসময় বাজারের অর্ধশতাধিক দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যা থামাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। পরে রাত একটার দিকে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

 

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন থেকে ছাতারপাইয়া এলাকার পূর্ব পাড়া ও পশ্চিম পাড়ার কোন্দল চলে আসছে। সামান্য কিছু হলেই দুই পক্ষে হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পশ্চিম পাড়া নিয়ন্ত্রণ করেন ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ইসমাইল মেম্বার। পূর্ব পাড়া নিয়ন্ত্রণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান। ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখানে হামলা-লুটপাট হয়ে থাকে। ইদের তিনদিন পূর্বে ইজিবাইকের সাথে মোটরসাইক দূর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম পাড়ার একটি গ্রুপ পূর্ব পাড়ার যুবদল নেতা সুমনদের বড় বাড়িতে হামলা চালায়। তারই সূত্র ধরে এই হামলা হয়েছে। এসময় অনেক দোকানে হামলা ও লুটপাট করা হয়েছে। বন্যার সময়েও পূর্ব পাড়া-পশ্চিম পাড়ার মধ্যে মারামারি হয়েছিলো। এর আগেও ২০১৬ সালে বাজারে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাতারপাইয়া পশ্চিম বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, ইদের তিন-চারদিন আগে পশ্চিম পাড়ার ইসমাইল মেম্বার ও তার এক আন্তীয় মোটরসাইকেল চালানোর সময় এক ইজিবাইকের সাথে ধাক্কা লাগে। সেই সময় ইজিবাইক চালকের সাথে ইসমাইল মেম্বারের হাতাহাতি হয়। ওই ইজিবাইক চালকের শ্বশুর বাড়ি ছিলো পূর্ব পাড়ার বড়বাড়িতে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইরাতে মেম্বারের লোকজন পূর্ব পাড়ার যুবদল নেতা বড়বাড়ির সুমনের ওপরে হামলা চালায়। তবে এই ঘটনাকে আড়াল করতে গতকালকের বৈদ্যুতিক তার চুরির মিমাংসিত বিষয়কে সামনে আনা হচ্ছে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাতারপাইয়া বাজারের ছোনোয়ার হার্ডওয়ার এর সত্ত্বাধিকারী বেলায়েত হেসেন বাড়ি নির্মাণ করছেন। সেখানে বিদ্যুৎ অয়ারিং এবং জিপসামের ইন্টেরিয়ার ডেকরেশনের কাজ চলমান রয়েছে। জিপসামের কাজ করছিলেন পশ্চিম পাড়ার ঠিকাদার মইন। বৈদ্যুতিক বোর্ডের কিছু তার চুরি হয়। যে ঘটনায় অভিযোগ ওঠে ইন্টেরিয়ার ডেকোরেশনের কর্মীদের ওপরে। পরে শুক্রবার বিকালে ক্ষতিপূরন দেওয়ার শর্তে বিষয়টি মিমাংসা হয়। তবে ছাতার পাইয়া বাজারের সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনার সূত্রপাত হিসেবে তার চুরির বিষয়টিকে সামনে আনা হয়েছে।

 

বাজারের ছানোয়ার হার্ডওয়ার এর সত্ত্বাধিকারী বেলায়েত হেসেন জানান, নির্মাণাধীন বৈদ্যুতিক তার চুরির বিষয়টি নিয়ে বিকালেই মইন কন্ট্রাক্টারের সাথে মিমাংসা হয়ে যায়। পরে রাতের দিকে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়ায়। একই ভাবে মইন কন্ট্রাক্টর জানান, তার কেটে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে পূর্ব-পশ্চিম পাড়ার সংঘর্ষ হয়নি। দুটি গ্রুপ নিজেদের স্বার্থে এই মারামারি করেছে। যাদের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতারা রয়েছেন।

 

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার এশার নামাজের আগে থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দুই গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট ছোড়াছুড়ি চলে। এসময় উভয়পক্ষে হেলমেট, দেশীয় অস্ত্র, রড়, লোহার পাইপ ও লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালায়। সোনাইমুড়ী ও সেনবাগ থানার পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। এসময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। তবে তারা টিয়ার শেল, লাঠিচার্জ করেনি। পরে সেনাবাহিনী এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

 

ছাতারপাইয়া বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, বাইরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে

বাজারে ভাংচুর-লুটপাটে তারা কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ ইসরাফিলের বাড়ি পশ্চিম পাড়ায়। তিনি জানান,গতকাল সার্টার ভেঙ্গে দোকানে থাকা বিভিন্ন ব্রান্ডের সিগারেট, মোবাইল ও নগদ টাকা লুটপাট চালায় হামলাকারীরা। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি।

 

বাজারের হুমায়ুন কবিরের মুদি দোকানে ব্যাপক লুটপাট চালায় হামলাকারীরা। তিনি পশ্চিম পাড়ার মালেক মেম্বার বাড়ির বাসিন্দা। হামলাকারীরা দোকান ভেঙ্গে বোতলজাত সয়াবিন তেল, প্যাকেটজাত শিশুখাদ্য দুধসহ ৮লাখ টাকার মালামাল ও ক্যাশে থাকা নগদ ৬০ হাজার টাকা লুটে নিয়ে যায়।

 

বাজারের শেষ প্রান্তের দোকান আল-মদিনার সত্ত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম। তিনি পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা। তার দোকান থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে হামলাকারীরা। তিনি এই হামলা ও লুটপাটের নেতৃত্বে পশ্চিম পাড়ার ইসমাইল মেম্বারের যোগসাজশের অভিযোগ তোলেন।

 

ছাতারপাইয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল আহাদ বলেন, বিভিন্ন সময়ে এই দুই গ্রুপের মারামারি কারনে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ৭০টির বেশি দোকানে হামলা করা হয়েছে। অনেক দোকানে লুটপাট করা হয়েছে। অনেকগুলো দোকানের বৈদ্যুতিক মিটার ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী ঋণ নিয়ে, সুদে টাকা নিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন। এমন মারামারি লেগে থাকলে এই বাজার একসময় ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়বে। তিনি আরো জানান, নোয়াখালী-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক এই বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করবেন। তিনি এমপির কাছে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

 

এদিকে এই বিষয়ে কথা বলতে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের চেয়ারম্যান এন্টারপ্রাইজে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওতে গতকাল রাতে বাজারের ব্যবসায়ীদের লাঠি হাতে প্রস্তুত থাকতে মাইকে ঘোষণা দিতে দেখা যায় তাকে। এছাড়া ইসমাইল মেম্বারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কল রিসিভ হয়নি।

 

ঘটনার বিষয়ে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিভিন্ন দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হন। তবে কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।