০২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদী হত্যাকাণ্ড: নেপথ্যে ভারত-বাংলাদেশের রাঘববোয়ালদের আঁতাত ও ‘রাজনৈতিক খেলা’র চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

  • নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • ৬১

ইব্রাহিম খলিল শাওনঃ

ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সালকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির এক বিস্ফোরক মন্তব্য এবং ফয়সালের গ্রেফতার-পরবর্তী নাটকীয়তা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে এক গভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু বাংলাদেশের নেতারাই নন, বরং ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সরাসরি আঁতাত ছিল। আর এই কারণেই সীমান্ত পার করে ফয়সালকে ভারতে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে ‘দাবার গুটি’ হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে।

মমতা ব্যানার্জির বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি

সম্প্রতি এক জনসভায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ফয়সালকে গ্রেফতার করার পরপরই ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে সরাসরি ফোন করেছিলেন।

মমতা বলেন:
“আমাকে বলা হয়েছিল এই বিষয়টা যেন বাইরে জানাজানি না হয়। কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিল? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আমি সবটাই জানি। এতদিন আমি এসব বলিনি। কিন্তু আজকে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা ব্যানার্জি বিজেপি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এই সংবেদনশীল তথ্যের কিয়দংশ ফাঁস করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার কাছে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারবেন না জেনেই তিনি এই তথ্যের তাস খেলছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 ৬ ঘণ্টার সীমান্ত পার ও নিখুঁত মহাপরিকল্পনা

অনুসন্ধানে জানা যায়, হাদী ভাইকে নিজেদের জন্য বড় হুমকি মনে করে এই হত্যাকাণ্ডের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে ফয়সালকে অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে সীমান্ত পার করিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মূল পরিকল্পনা ছিল, ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে ভারতের মাটিতে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া হবে এবং তাদের দেখভালের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে ভারতীয় নেতারাই। পরবর্তীতে এই খুনিদের ব্যবহার করে ভারতের অভ্যন্তরীণ ও ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করাই ছিল স্বরাষ্ট্র বিভাগের মূল লক্ষ্য।

 

গত মার্চ মাসে ফয়সালকে গ্রেফতার দেখিয়ে হঠাৎ মিডিয়ার সামনে আনা হয়। এর পেছনেও ছিল এক সুক্ষ্ম রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে ফয়সালকে দিয়ে আগে থেকে শিখিয়ে দেওয়া কিছু বুলি বলানো হয়।
যখন ফয়সালকে জিজ্ঞেস করা হয়, *”ওসমান হাদীকে কে খুন করিয়েছে?”* সে পূর্বপরিকল্পনা মাফিক উত্তর দেয়, *”জামায়াতের চাল এটা।”*

পরবর্তীতে সাংবাদিকরা সুনির্দিষ্ট নাম জানতে চাইলে সে কোনো নাম বলতে পারেনি। বরং নিজের জান বাঁচাতে তোতাপাখির মতো বলতে থাকে, *”জামায়াত করাতে পারে এটা।”* একই সাথে নিহত ওসমান হাদীকে ‘জঙ্গি’ বলে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টাও করে সে। সাংবাদিকদের বারবার সুনির্দিষ্ট নামের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল নিশ্চুপ ছিল, যা স্পষ্ট করে দেয় যে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের জামায়াত-বিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই ফয়সালকে দিয়ে এই বয়ান তৈরি করানো হয়েছিল।

ভিআইপি রিমান্ড ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন

কলকাতা পুলিশ ফয়সালকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিলেও আদালতের বাইরে আসামিদের ভাবভঙ্গি দেখে তা মোটেও মনে হয়নি। ফয়সালের সহযোগী আলমগীরকে যখন আদালতে তোলা হয়, তখন তাকে কোনো হ্যান্ডকাফ পরানো হয়নি, বরং পকেটে হাত দিয়ে বেশ খোশমেজাজে হাঁটতে দেখা গেছে। এমনকি জেলেও তাদের রাজকীয় খাবার ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ভারতের পুলিশ সর্বোচ্চ ফয়সালের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পাসপোর্ট না থাকার বিষয়ে তদন্ত করতে পারত। হত্যাকাণ্ডের মূল তদন্ত এবং জিজ্ঞাসাবাদ করার এখতিয়ার ছিল বাংলাদেশ পুলিশের। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কলকাতা পুলিশ নিজেই হাদী হত্যাকাণ্ডের তদন্তের ভার নিজের হাতে তুলে নেয়, যা স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। মূলত ফয়সালকে বাংলাদেশ পুলিশের হাতে ছেড়ে দিলে পেছনের মাস্টারমাইন্ড ও ভারতীয় নেতারা ফেঁসে যাওয়ার ভয়েই তাকে নিজেদের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এই মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে মূলত দুটি বিষয় প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হয়েছে:
১. হত্যাকাণ্ডটি জামায়াতের কাজ।
২. ওসমান হাদী ভারতের জন্য হুমকি ছিল, তাই তাকে হত্যা করা ‘জায়েজ’।

বিপাকে বাংলাদেশের রাজনীতি, শেষ পরিণতি কী?

বাংলাদেশের বর্তমান বিএনপি সরকার সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যে, খুনি ফয়সালকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি সরকারের পক্ষে এটি করা প্রায় অসম্ভব। কারণ ফয়সাল এখন দিল্লির কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক গুটি।

মমতা ব্যানার্জি আরও অনেক তথ্য জানলেও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে মুখ খোলার আর কোনো সুযোগ দেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যতদিন সম্ভব ফয়সালকে বাঁচিয়ে রেখে নিজেদের পেছনের মাস্টারমাইন্ডদের আড়াল করবে এবং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করবে ভারতের স্বরাষ্ট্র বিভাগ।

তবে রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা, ফয়সালের মাধ্যমে সব উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে গেলে এবং তার কার্যকারিতা ফুরিয়ে গেলে, পেছনের সত্য চিরতরে চাপা দিতে তাকে কোনো ‘ব্যবহৃত টিস্যু’র মতো মেরে ছুড়ে ফেলতেও দ্বিধা করবে না ভারতের নীতিনির্ধারকেরা।

সর্বাধিক পঠিত

চাটখিলে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যুবদলের র‍্যালি ও সমাবেশ

হাদী হত্যাকাণ্ড: নেপথ্যে ভারত-বাংলাদেশের রাঘববোয়ালদের আঁতাত ও ‘রাজনৈতিক খেলা’র চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

আপডেট: ১১:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

ইব্রাহিম খলিল শাওনঃ

ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সালকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির এক বিস্ফোরক মন্তব্য এবং ফয়সালের গ্রেফতার-পরবর্তী নাটকীয়তা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে এক গভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু বাংলাদেশের নেতারাই নন, বরং ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সরাসরি আঁতাত ছিল। আর এই কারণেই সীমান্ত পার করে ফয়সালকে ভারতে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে ‘দাবার গুটি’ হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে।

মমতা ব্যানার্জির বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি

সম্প্রতি এক জনসভায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ফয়সালকে গ্রেফতার করার পরপরই ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে সরাসরি ফোন করেছিলেন।

মমতা বলেন:
“আমাকে বলা হয়েছিল এই বিষয়টা যেন বাইরে জানাজানি না হয়। কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিল? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আমি সবটাই জানি। এতদিন আমি এসব বলিনি। কিন্তু আজকে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা ব্যানার্জি বিজেপি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এই সংবেদনশীল তথ্যের কিয়দংশ ফাঁস করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার কাছে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারবেন না জেনেই তিনি এই তথ্যের তাস খেলছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 ৬ ঘণ্টার সীমান্ত পার ও নিখুঁত মহাপরিকল্পনা

অনুসন্ধানে জানা যায়, হাদী ভাইকে নিজেদের জন্য বড় হুমকি মনে করে এই হত্যাকাণ্ডের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে ফয়সালকে অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে সীমান্ত পার করিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মূল পরিকল্পনা ছিল, ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে ভারতের মাটিতে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া হবে এবং তাদের দেখভালের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে ভারতীয় নেতারাই। পরবর্তীতে এই খুনিদের ব্যবহার করে ভারতের অভ্যন্তরীণ ও ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করাই ছিল স্বরাষ্ট্র বিভাগের মূল লক্ষ্য।

 

গত মার্চ মাসে ফয়সালকে গ্রেফতার দেখিয়ে হঠাৎ মিডিয়ার সামনে আনা হয়। এর পেছনেও ছিল এক সুক্ষ্ম রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে ফয়সালকে দিয়ে আগে থেকে শিখিয়ে দেওয়া কিছু বুলি বলানো হয়।
যখন ফয়সালকে জিজ্ঞেস করা হয়, *”ওসমান হাদীকে কে খুন করিয়েছে?”* সে পূর্বপরিকল্পনা মাফিক উত্তর দেয়, *”জামায়াতের চাল এটা।”*

পরবর্তীতে সাংবাদিকরা সুনির্দিষ্ট নাম জানতে চাইলে সে কোনো নাম বলতে পারেনি। বরং নিজের জান বাঁচাতে তোতাপাখির মতো বলতে থাকে, *”জামায়াত করাতে পারে এটা।”* একই সাথে নিহত ওসমান হাদীকে ‘জঙ্গি’ বলে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টাও করে সে। সাংবাদিকদের বারবার সুনির্দিষ্ট নামের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল নিশ্চুপ ছিল, যা স্পষ্ট করে দেয় যে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের জামায়াত-বিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই ফয়সালকে দিয়ে এই বয়ান তৈরি করানো হয়েছিল।

ভিআইপি রিমান্ড ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন

কলকাতা পুলিশ ফয়সালকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিলেও আদালতের বাইরে আসামিদের ভাবভঙ্গি দেখে তা মোটেও মনে হয়নি। ফয়সালের সহযোগী আলমগীরকে যখন আদালতে তোলা হয়, তখন তাকে কোনো হ্যান্ডকাফ পরানো হয়নি, বরং পকেটে হাত দিয়ে বেশ খোশমেজাজে হাঁটতে দেখা গেছে। এমনকি জেলেও তাদের রাজকীয় খাবার ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ভারতের পুলিশ সর্বোচ্চ ফয়সালের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পাসপোর্ট না থাকার বিষয়ে তদন্ত করতে পারত। হত্যাকাণ্ডের মূল তদন্ত এবং জিজ্ঞাসাবাদ করার এখতিয়ার ছিল বাংলাদেশ পুলিশের। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কলকাতা পুলিশ নিজেই হাদী হত্যাকাণ্ডের তদন্তের ভার নিজের হাতে তুলে নেয়, যা স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। মূলত ফয়সালকে বাংলাদেশ পুলিশের হাতে ছেড়ে দিলে পেছনের মাস্টারমাইন্ড ও ভারতীয় নেতারা ফেঁসে যাওয়ার ভয়েই তাকে নিজেদের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এই মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে মূলত দুটি বিষয় প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হয়েছে:
১. হত্যাকাণ্ডটি জামায়াতের কাজ।
২. ওসমান হাদী ভারতের জন্য হুমকি ছিল, তাই তাকে হত্যা করা ‘জায়েজ’।

বিপাকে বাংলাদেশের রাজনীতি, শেষ পরিণতি কী?

বাংলাদেশের বর্তমান বিএনপি সরকার সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যে, খুনি ফয়সালকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি সরকারের পক্ষে এটি করা প্রায় অসম্ভব। কারণ ফয়সাল এখন দিল্লির কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক গুটি।

মমতা ব্যানার্জি আরও অনেক তথ্য জানলেও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে মুখ খোলার আর কোনো সুযোগ দেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যতদিন সম্ভব ফয়সালকে বাঁচিয়ে রেখে নিজেদের পেছনের মাস্টারমাইন্ডদের আড়াল করবে এবং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করবে ভারতের স্বরাষ্ট্র বিভাগ।

তবে রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা, ফয়সালের মাধ্যমে সব উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে গেলে এবং তার কার্যকারিতা ফুরিয়ে গেলে, পেছনের সত্য চিরতরে চাপা দিতে তাকে কোনো ‘ব্যবহৃত টিস্যু’র মতো মেরে ছুড়ে ফেলতেও দ্বিধা করবে না ভারতের নীতিনির্ধারকেরা।