০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও মামলার জট: বিচার ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবি

  • নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:০৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ৪৫

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় ঝুলে থাকা লাখ লাখ মামলার জট এবং দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি এবং বছরের পর বছর ধরে চলা মামলার কারণে বিচারপ্রার্থীদের আস্থা সংকটের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের আদালতগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৪৭ লক্ষাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ মামলার জট বর্তমান গতিতে নিষ্পত্তি করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। বছরের পর বছর ধরে আদালত প্রাঙ্গণে ঘুরে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হচ্ছে এবং অনেকেই একপর্যায়ে বিচারের আশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাস্তব চিত্র তুলে ধরে দেখা যায়, তনু, আবরার ফাহাদ কিংবা আছিয়ার মতো চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া বা রায় কার্যকরের বিষয়টি বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। অনেক ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতে রায় হলেও উচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে চূড়ান্ত ন্যায়বিচার পেতে দশকের পর দশক অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আছিয়ার মায়ের মতো অনেক ভুক্তভোগী পরিবারই আজ চরম অভাব ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, অথচ অপরাধীরা আইনি ফাঁকফোকর বা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সুবিধা পাচ্ছে।

গতকালের একটি ঘটনায় রামিসার বাবার কান্নাভেজা কণ্ঠ সাধারণ মানুষের এই গভীর ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ, যেখানে তিনি ক্ষোভের সাথে বলেছেন, “আমি বিচার চাই না, জানি আপনারা বিচার করতে পারবেন না।” এই বক্তব্যটি বর্তমান বিচারিক ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের তীব্র অনাস্থারই প্রতীক।

সচেতন মহলের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে অপরাধ প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে। অপরাধীদের সময়মতো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া এবং তদন্ত ও পোস্টমর্টেম রিপোর্টে দুর্নীতির অভিযোগ পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একটি আমের একটি অংশ পচে গেলে যেমন কেটে ফেলা যায়, কিন্তু পুরো আম নষ্ট হলে তা ফেলে দিতে হয়—বিচার ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থাকে অনেকে সেই উপমার সাথেই তুলনা করছেন।

তবে আইনবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, পুরো সিস্টেমকে ধ্বংস না করে এর ভেতরের গলদগুলো দূর করা প্রয়োজন। বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, তদন্ত প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, দুর্নীতি রোধ এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।

ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবারকে এভাবে বিচারের বাণী নিয়ে নীরবে নিভৃতে কাঁদতে না হয়, সেজন্য এখনই বিচার ব্যবস্থার আমূল সংস্কার অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ।

ইব্রাহিম খলিল শাওন

সর্বাধিক পঠিত

চাটখিলে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যুবদলের র‍্যালি ও সমাবেশ

বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও মামলার জট: বিচার ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবি

আপডেট: ০৭:০৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় ঝুলে থাকা লাখ লাখ মামলার জট এবং দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি এবং বছরের পর বছর ধরে চলা মামলার কারণে বিচারপ্রার্থীদের আস্থা সংকটের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের আদালতগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৪৭ লক্ষাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ মামলার জট বর্তমান গতিতে নিষ্পত্তি করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। বছরের পর বছর ধরে আদালত প্রাঙ্গণে ঘুরে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হচ্ছে এবং অনেকেই একপর্যায়ে বিচারের আশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাস্তব চিত্র তুলে ধরে দেখা যায়, তনু, আবরার ফাহাদ কিংবা আছিয়ার মতো চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া বা রায় কার্যকরের বিষয়টি বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। অনেক ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতে রায় হলেও উচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে চূড়ান্ত ন্যায়বিচার পেতে দশকের পর দশক অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আছিয়ার মায়ের মতো অনেক ভুক্তভোগী পরিবারই আজ চরম অভাব ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, অথচ অপরাধীরা আইনি ফাঁকফোকর বা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সুবিধা পাচ্ছে।

গতকালের একটি ঘটনায় রামিসার বাবার কান্নাভেজা কণ্ঠ সাধারণ মানুষের এই গভীর ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ, যেখানে তিনি ক্ষোভের সাথে বলেছেন, “আমি বিচার চাই না, জানি আপনারা বিচার করতে পারবেন না।” এই বক্তব্যটি বর্তমান বিচারিক ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের তীব্র অনাস্থারই প্রতীক।

সচেতন মহলের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে অপরাধ প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে। অপরাধীদের সময়মতো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া এবং তদন্ত ও পোস্টমর্টেম রিপোর্টে দুর্নীতির অভিযোগ পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একটি আমের একটি অংশ পচে গেলে যেমন কেটে ফেলা যায়, কিন্তু পুরো আম নষ্ট হলে তা ফেলে দিতে হয়—বিচার ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থাকে অনেকে সেই উপমার সাথেই তুলনা করছেন।

তবে আইনবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, পুরো সিস্টেমকে ধ্বংস না করে এর ভেতরের গলদগুলো দূর করা প্রয়োজন। বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, তদন্ত প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, দুর্নীতি রোধ এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।

ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবারকে এভাবে বিচারের বাণী নিয়ে নীরবে নিভৃতে কাঁদতে না হয়, সেজন্য এখনই বিচার ব্যবস্থার আমূল সংস্কার অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ।

ইব্রাহিম খলিল শাওন