০৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

র‍্যাবের হাতে গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মাথায় জামিনে মুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোহন

চাটখিল টিভি ডেস্কঃ

​নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মহিন উদ্দীন মোহনের গ্রেফতার ও পরবর্তী জামিন লাভের ঘটনায় এলাকায় নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চাঁদাবাজি ও মারামারির মামলায় র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন তিনি।

​গত রোববার (১০ মে) দুপুরে জয়াগ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে মহিন উদ্দীন মোহনকে গ্রেফতার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১১।

র‍্যাব জানায়, গত বছরের ১৮ মার্চ মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা চাঁদাবাজি ও মারামারির মামলায় মোহনের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। দীর্ঘ দিন তিনি ‘পলাতক’ ছিলেন বলে পুলিশ দাবি করে।

​গ্রেফতারের পর মোহনকে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশের মাধ্যমে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক মোহনের জামিন মঞ্জুর করেন। গ্রেফতারের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই মুক্তি স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

​প্যানেল চেয়ারম্যান মোহনের পরিবার এবং অনুসারীদের দাবি, এই মামলাটি একটি সাজানো নাটক।

০২/১২/২০২৫ তারিখেে উপজেলা নির্বাহী অফিসারে কাছে মিথ্যা মামলা হতে অব্যহতি পেতে একটি লিখিত আবেদন দেন মোহন।

লিখিত আবেদনে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মোহন জানান:
​গত বছর আনন্দীপুর গ্রামে মাটি পরিবহনের ফলে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এলাকাবাসী গাড়ি আটকে দেয়।
​তৎকালীন এসিল্যান্ড ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নির্দেশে তিনি গ্রাম পুলিশসহ ঘটনাস্থলে যান।

​ঘটনাস্থলে ইউএনও এবং সাব-ইন্সপেক্টর কামালের উপস্থিতিতে রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি মেরামত নিয়ে আলোচনা হয়।
​বাদী মিজানের লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তিনি সেনাবাহিনীর সাথে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন।

মোহন প্রশ্ন তোলেন, “প্রশাসনের সাখে থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করা কি আমার অপরাধ? যেখানে ইউএনও মহোদয় নিজেই প্রত্যক্ষদর্শী, সেখানে চাঁদাবাজির মামলা হাস্যকর।”

​মোহরেন অনুসারীরা এই মুক্তিকে ‘আইনি সত্যের জয়’ হিসেবে অভিহিত করলেও, মামলার বাদী পক্ষ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

​বর্তমানে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মোহন দাবি করেছেন, মিথ্যা মামলার কারণে তিনি ও তার পরিবার সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বাধিক পঠিত

মাদ্রাসা থেকে সরকারি বরাদ্দের  চালগুলো বৈধ উপায়ে ক্রয় করেছে;দাবি অভিযুক্তের

র‍্যাবের হাতে গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মাথায় জামিনে মুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোহন

আপডেট: ০৬:০১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

চাটখিল টিভি ডেস্কঃ

​নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মহিন উদ্দীন মোহনের গ্রেফতার ও পরবর্তী জামিন লাভের ঘটনায় এলাকায় নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চাঁদাবাজি ও মারামারির মামলায় র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন তিনি।

​গত রোববার (১০ মে) দুপুরে জয়াগ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে মহিন উদ্দীন মোহনকে গ্রেফতার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১১।

র‍্যাব জানায়, গত বছরের ১৮ মার্চ মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা চাঁদাবাজি ও মারামারির মামলায় মোহনের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। দীর্ঘ দিন তিনি ‘পলাতক’ ছিলেন বলে পুলিশ দাবি করে।

​গ্রেফতারের পর মোহনকে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশের মাধ্যমে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক মোহনের জামিন মঞ্জুর করেন। গ্রেফতারের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই মুক্তি স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

​প্যানেল চেয়ারম্যান মোহনের পরিবার এবং অনুসারীদের দাবি, এই মামলাটি একটি সাজানো নাটক।

০২/১২/২০২৫ তারিখেে উপজেলা নির্বাহী অফিসারে কাছে মিথ্যা মামলা হতে অব্যহতি পেতে একটি লিখিত আবেদন দেন মোহন।

লিখিত আবেদনে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মোহন জানান:
​গত বছর আনন্দীপুর গ্রামে মাটি পরিবহনের ফলে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এলাকাবাসী গাড়ি আটকে দেয়।
​তৎকালীন এসিল্যান্ড ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নির্দেশে তিনি গ্রাম পুলিশসহ ঘটনাস্থলে যান।

​ঘটনাস্থলে ইউএনও এবং সাব-ইন্সপেক্টর কামালের উপস্থিতিতে রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি মেরামত নিয়ে আলোচনা হয়।
​বাদী মিজানের লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তিনি সেনাবাহিনীর সাথে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন।

মোহন প্রশ্ন তোলেন, “প্রশাসনের সাখে থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করা কি আমার অপরাধ? যেখানে ইউএনও মহোদয় নিজেই প্রত্যক্ষদর্শী, সেখানে চাঁদাবাজির মামলা হাস্যকর।”

​মোহরেন অনুসারীরা এই মুক্তিকে ‘আইনি সত্যের জয়’ হিসেবে অভিহিত করলেও, মামলার বাদী পক্ষ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

​বর্তমানে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মোহন দাবি করেছেন, মিথ্যা মামলার কারণে তিনি ও তার পরিবার সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।