০৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই সনদ ও জনগণের রায় অবহেলা করলে ফ্যাসিবাদের মতো পরিণতি হবে: জামায়াত নেতা ইসহাক খন্দকার

  • নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:৩৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪৫

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:

১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ৭১ শতাংশ জনরায় এবং ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’কে যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। এ নিয়ে কোনো ধরনের তালবাহানা করা হলে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের মতোই পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আমির ইসহাক খন্দকার।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাটখিল উপজেলা শাখার উদ্যোগে চাটখিল পৌরবাজারে আয়োজিত বিশাল কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসহাক খন্দকার বলেন, বর্তমানে সারা দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল, পানি ও সারের তীব্র সংকট চলছে। সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়ে দুর্নীতির রাজ্য গড়ে তুলেছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনগণ এই সরকারকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে বিদায় করবে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে অসংগতিপূর্ণ ও অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দেওয়া বন্ধ করতে হবে। বিশ্বদরবারে দেশের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, যারা রাজপথে নেমে রক্ত দেননি কিংবা সংকটের সময় দেশে উপস্থিত ছিলেন না, তারা জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত চেতনা ও জনগণের ত্যাগের মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারবেন না।

দেশের সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের এসব দাবি পূরণ না হলে এবং জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের চক্রান্ত করা হলে আগামী ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু করা হবে।

চাটখিল উপজেলা জামায়াতের আমির ও নোয়াখালী জেলা মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা মহিউদ্দিন হাসানের সভাপতিত্বে সমাবেশটি পরিচালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. নূর হোসেন রিয়াজ। এতে স্বাগত ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন চাটখিল পৌরসভা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ আকতার হোসেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী জেলা মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মো. ছাইফ উল্যা, বেগমগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা বোরহান উদ্দীন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নোয়াখালী জেলা উত্তর সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকার রায়েরবাগ ইসলামিয়া হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবুল হাসনাত মো. মর্তুজা, চাটখিল পৌরসভা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মো. রাকিব উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির সুমন, মোহাম্মদীয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাওলানা মনির হোসেন, ২৮ অক্টোবরের আহত মাওলানা ওমর ফারুক, নোয়াখালী জেলা উত্তর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. আরিফুর রহমান, ব্যবসায়ী মো. একরাম হোসেন ও চাঁদহাজী বাড়ি জামে মসজিদের সেক্রেটারি মুরাদ হোসেন রনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চাটখিল ইসলামিয়া হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তাওহীদুল ইসলাম, হাজারার দীঘির পাড় জামে মসজিদ ও মক্তবের সভাপতি মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, রাইটওয়ে অ্যাসেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও মানিকপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সভাপতি মো. খোরশেদ আলম, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী নূর নবী, শিক্ষানুরাগী মাওলানা ইসমাইল হোসেন, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক তানজিল হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর ও ব্যবসায়ী জামাল উদ্দীন এবং চাটখিল সদর আদর্শ থানা শাখার সভাপতি আবু সুফিয়ান রাহাতসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে চাটখিল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে জামায়াতে ইসলামী এবং এর সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ ছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের পর দেশ ও জাতির ঐক্য, সমৃদ্ধি এবং শান্তি কামনায় মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মী সমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।

সর্বাধিক পঠিত

জুলাই সনদ ও জনগণের রায় অবহেলা করলে ফ্যাসিবাদের মতো পরিণতি হবে: জামায়াত নেতা ইসহাক খন্দকার

জুলাই সনদ ও জনগণের রায় অবহেলা করলে ফ্যাসিবাদের মতো পরিণতি হবে: জামায়াত নেতা ইসহাক খন্দকার

আপডেট: ০৬:৩৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:

১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ৭১ শতাংশ জনরায় এবং ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’কে যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। এ নিয়ে কোনো ধরনের তালবাহানা করা হলে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের মতোই পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আমির ইসহাক খন্দকার।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাটখিল উপজেলা শাখার উদ্যোগে চাটখিল পৌরবাজারে আয়োজিত বিশাল কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসহাক খন্দকার বলেন, বর্তমানে সারা দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল, পানি ও সারের তীব্র সংকট চলছে। সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়ে দুর্নীতির রাজ্য গড়ে তুলেছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনগণ এই সরকারকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে বিদায় করবে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে অসংগতিপূর্ণ ও অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দেওয়া বন্ধ করতে হবে। বিশ্বদরবারে দেশের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, যারা রাজপথে নেমে রক্ত দেননি কিংবা সংকটের সময় দেশে উপস্থিত ছিলেন না, তারা জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত চেতনা ও জনগণের ত্যাগের মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারবেন না।

দেশের সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের এসব দাবি পূরণ না হলে এবং জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের চক্রান্ত করা হলে আগামী ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু করা হবে।

চাটখিল উপজেলা জামায়াতের আমির ও নোয়াখালী জেলা মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা মহিউদ্দিন হাসানের সভাপতিত্বে সমাবেশটি পরিচালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. নূর হোসেন রিয়াজ। এতে স্বাগত ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন চাটখিল পৌরসভা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ আকতার হোসেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী জেলা মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মো. ছাইফ উল্যা, বেগমগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা বোরহান উদ্দীন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নোয়াখালী জেলা উত্তর সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকার রায়েরবাগ ইসলামিয়া হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবুল হাসনাত মো. মর্তুজা, চাটখিল পৌরসভা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মো. রাকিব উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির সুমন, মোহাম্মদীয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাওলানা মনির হোসেন, ২৮ অক্টোবরের আহত মাওলানা ওমর ফারুক, নোয়াখালী জেলা উত্তর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. আরিফুর রহমান, ব্যবসায়ী মো. একরাম হোসেন ও চাঁদহাজী বাড়ি জামে মসজিদের সেক্রেটারি মুরাদ হোসেন রনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চাটখিল ইসলামিয়া হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তাওহীদুল ইসলাম, হাজারার দীঘির পাড় জামে মসজিদ ও মক্তবের সভাপতি মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, রাইটওয়ে অ্যাসেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও মানিকপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সভাপতি মো. খোরশেদ আলম, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী নূর নবী, শিক্ষানুরাগী মাওলানা ইসমাইল হোসেন, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক তানজিল হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর ও ব্যবসায়ী জামাল উদ্দীন এবং চাটখিল সদর আদর্শ থানা শাখার সভাপতি আবু সুফিয়ান রাহাতসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে চাটখিল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে জামায়াতে ইসলামী এবং এর সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ ছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের পর দেশ ও জাতির ঐক্য, সমৃদ্ধি এবং শান্তি কামনায় মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মী সমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।